ব্যাক্লোফেন

General

প্রেসক্রাইবিং তথ্য

জেনেরিক বিবরণ

নির্দেশনা

ব্যাক্লোফেন নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-<br /> <ul> <li>মাল্টিপোল স্ক্লেরোসিস দ্বারা সৃষ্ট স্পাসটিসিটি</li> <li>ফ্লেক্সর স্পাজম এবং এর পাশাপাশি ব্যথা, ক্লোনাস এবং মাসকিউলার রিজিডিটি</li> <li>রিউমাটিক ডিজঅর্ডার দ্বারা সৃষ্ট স্কেলেটাল মাসল স্পাজম</li> <li>কশেরুকাতে আঘাত এবং কশেরুকার অন্যান্য সমস্যা</li> <li>সেরেব্রোভাসকিউলার দূর্ঘটনা অথবা নিওপ্লাসটিক অথবা ব্রেনের অন্যান্য সমস্যা।</li> </ul>

ফার্মাকোলজি

গাবা-বি রিসেপ্টরকে উদ্দীপ্ত করার মাধ্যমে ব্যাক্লোফেন সাধারণত মনোসিনেপটিক ও পলিসিনেপটিক রিফ্লেক্সকে প্রতিহত করে যা গ্লুটামেট ও এসপারটেট এর সংশ্লেষণে বাধা দান করে। উপরন্তু ব্যাক্লোফেন কশেরুকার মধ্যবর্তী স্থানে কাজ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অবসাদ করে দেয়। ব্যাক্লোফেন নসিসেপটিভ উদ্দীপনাকেও প্রতিহত করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

<strong>পূর্ণ বয়স্ক ও ১০ বছরের ঊর্ধ্বে</strong>: ৫ মিগ্রা দিনে তিন বার খাবার আগে বা পরে, ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০০ মিগ্রা করা যায়।<br /><br /><strong>১০ বছরের নীচের শিশু</strong>: প্রাথমিকভাবে ২.৫ মিগ্রা (২.৫ মিলি) দিনে ৪ বার এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে। দৈনিক রক্ষনাবেক্ষন মাত্রা-<br /> <ul> <li>১২ মাস-২ বছর: ১০-২০ মিগ্রা (১০-২০ মিলি)</li> <li>২ বছর-৬ বছর: ২০-৩০ মিগ্রা (২০-৩০ মিলি)</li> <li>৬ বছর- ১০ বছর: ৩০-৬০ মিগ্রা (৩০-৬০ মিলি)</li> </ul>

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

<ul> <li>স্নায়ূতন্ত্রের উপর কাজ করে এমন কোন কিছু যেমন- অ্যালকোহল,&nbsp;অপিয়েট ইত্যাদির সাথে বেকলোফেন ঘুম আরো বাড়ায়। এতে শ্বাসনালীর সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।</li> <li>এন্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধের সাথে গ্রহণ করলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এন্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধের মাত্রা পুননির্ধারণ করা উচিত।</li> <li>বেকলোফেন এবং ট্রাইসাইক্লিক এন্টিডিপ্রেসেন্ট এক সাথে খেলে বেকলোফেনের কার্যকারিতা বেড়ে যায় যার ফলে মাসকুলার হাইপারটোনিয়া হতে পারে।</li> <li>পার্কিনসনের রোগীদের ক্ষেত্রে বেকলোফেন এবং লেভোডোপা বা কার্বিডোপা একসাথে দিলে মানসিক বিভ্রান্তি,&nbsp;ভুল বুঝা,&nbsp;মাথাব্যথা,ক্ষুধামন্দা ও উত্তেজনা হতে পারে।</li> <li>মনো অ্যামাইনো অক্সিডেজের সাথে বেকলোফেন স্নায়ুর নিস্তেজতা ঘটায়। এক্ষেত্রে সতর্কতা সহ মাত্রা পুননির্ধারণ করা উচিত ।</li> <li>বেকলোফেন ম্যাগনেসিয়ামের সাথে বা অন্য কোন পদার্থ যা নিউরোমাস্&zwnj;কুলার ব্লকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে,&nbsp;একসাথে খেলে কার্যকারিতা বেড়ে যাওয়ার কথা।</li> </ul>

প্রতিনির্দেশনা

ব্যাক্লোফেনের প্রতি সংবেদনশীল রোগীদের জন্য এটা প্রতিনির্দেশিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তন্দ্রালুতা, ঘুমঘুম ভাব, ঝিমুনি, দূর্বলতা ও অবসাদ। <ul> <li><strong>স্নায়ু</strong>: মাথাব্যথা, নিদ্রাহীনতা এবং সামান্য উত্তেজনা, হতাশা, বিভ্রান্তি, পেশীর ব্যথা, খিঁচুনি ইত্যাদি।</li> <li><strong>রক্ত সঞ্চালন</strong>: হাইপোটেনশন এবং খুব কম ক্ষেত্রে ঘন ঘন শ্বাস নেয়া,&nbsp;বুক ধড়ফড় করা,&nbsp;বুকে ব্যথা ও মুর্ছা যাওয়া।</li> <li><strong>পরিপাক তন্ত্র</strong>: ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখের শুষ্কতা, স্বাদহীনতা, অ্যাবডোমিনাল ব্যথা, বমিবমি ভাব, ডায়রিয়া, স্টোলে অকাল্টবাড থাকা।</li> <li><strong>মূত্রথলি</strong>: বার বার প্রস্রাবভাব হওয়া,&nbsp;মূত্র না বের হওয়া,&nbsp;যৌন সমস্যা,&nbsp;ইজাকুলেশন না হওয়া,&nbsp;রাত্রে বার বার প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাবে রক্ত আসা।</li> <li><strong>অন্যান্য</strong>: র&zwj;্যাশ, চুলকানি, ফোলা, ওজনবৃদ্ধি, নাক বদ্ধতা, চোখে ঝাঁপসা দেখা, হেপাটিক সমস্যা ইত্যাদি। পেশীর টান এমন হতে পারে যে হাঁটা চলায় সমস্যা হয় তখন মাত্রা পুনঃনির্ধারণ করা উচিত। এজন্য দিনের বেলায় কম মাত্রা দিয়ে রাত্রে বেশী মাত্রা দেয়া উচিত।</li> </ul>

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি বি৩। গর্ভাবস্থায় বেকলোফেনের নিরাপদ ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত নয়। বেকলোফেন প্লাসেন্টা অতিক্রম করে। ঝুকির চেয়ে উপকারিতা বেশী হলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যায় যা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে হতে হবে। মাতৃদুগ্ধে এত সামান্য নিঃসরিত হয় যে তা কোন ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটার জন্য যথেষ্ট নয়।

সতর্কতা

<ul> <li>রেনাল ইমপেয়ারমেন্টের রোগীদের এবং যারা দীর্ঘদিন হিমোডায়ালাইসিস নিচ্ছে তাদেরকে সতর্কতার সাথে দিনে ৫ মি.গ্রা. দেয়া উচিত।</li> <li>যারা স্পাজম ছাড়াও অন্যান্য মানসিক সমস্যা,&nbsp;পাগলামি,&nbsp;হতাশা,&nbsp;অস্থিরতায় ভূগছে তাদেরকে সতর্কতার সাথে ওষুধটি দেয়া উচিত যেহেতু তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলির অবনতি হতে পারে।</li> <li>খিঁচুনির রোগীদের ক্ষেত্রে বেকলোফেনের সাথে পর্যাপ্ত খিঁচুনির ওষুধ দিতে হবে এবং বিশেষ সতর্কতার সাথে অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। বেকলোফেন দিয়ে চিকিৎসার পর সহজেই খিঁচুনি হতে পারে যা বেকলোফেন দিয়ে চিকিৎসার পর আরও অবনতি হতে পারে।</li> <li>যাদের আলসার,&nbsp;সেরেব্রোভাসকুলার ডিজিজ,&nbsp;হেপাটিক বা রেনাল বা শ্বাস নালীর সমস্যা আছে তাদেরকে সতর্কতার সাথে বেকলোফেন দিতে হবে।</li> <li>যাদের কার্ডিওপালমোনারী বা শ্বাসনালীর পেশীর দূর্বলতা রয়েছে তাদেরও সতর্কতার সাথে দিতে হবে।</li> <li>বেকলোফেন দিয়ে চিকিৎসার সময় স্নায়ূতন্ত্রের সমস্যার উন্নতি হতে পারে যা মূত্রথলির নিঃসরণ সহজ করে। তারপরও এটা স্ফিংটারে বেশী চাপ এবং হঠাৎ মূত্রথলিতে মূত্রাধিক্য ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে বেকলোফেন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।</li> <li>স্ট্রোকের রোগীদের জন্য বেকলোফেন খুব বেশি উপকারী নয়। এসব রোগীরা সাধারণত এই ওষুধে কম সহনীয় হয়।</li> <li>হেপাটিক ও ডায়াবেটিসের রোগীদের সঠিক ল্যাবরেটরী পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা উচিত যে বেকলোফেন এসব রোগের অবনতি ঘটাচ্ছে না।</li> </ul>

মাত্রাধিক্যতা

অতিমাত্রায় গ্যাসট্রিক লিভেজ খুবই গুরুত্বপূর্ন।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Centrally acting Skeletal Muscle Relaxants

সংরক্ষণ

আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ৩০ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রার নীচে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।